Skip to main content

'বাস্থই এন্টারপ্রাইজ' এর ধারনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

বাস্থই এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড


১) বিষয়টা কি?

‘বাস্থই এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড’ দেশের কোম্পানি অ্যাক্ট ১৯৯৪ এর  আওতায় বাস্থই এর মালিকানায় একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে, যা কিনা জয়েন্ট স্টক অব কোম্পানিতে (RJSC) নিবন্ধিত থাকবে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা সমূহ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই কোম্পানির পরিচালকগণ বাস্থই কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং কোন লভ্যাংশ  গ্রহণ করবেন না, ইসির সদস্যগণ থাকবেন পদাধিকার বলে। কোম্পানিটি কেবলমাত্র বাস্থই তথা সদস্যের কল্যাণার্থে পরিচালিত হবে। এই কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আয়ের উপর অর্পিত করের দায়ভার এই কোম্পানি নিজেই নিষ্পত্তি করবে, যা কখনই বাস্থই উপর বর্তাবে না। এতে করে বাস্থই তার অধিবিদ্য চারিত্র বজায় রেখে পেশা, শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরোও প্রগাঢ় ভাবে অন্বেষণ করতে পারবে। বর্তমানে ইসির অনেক সদস্যই এ ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন, ফলে তাদের পেশা সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। 


২) এখনই বা কেনো দরকার হলো এটা করার?

বিগত ০২ মে, ২০১৯ সালে বাস্থই করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন নম্বর (Taxpayer Identification Number, TIN)  গ্রহণ করে। দেশের আইনে যে সকল ব্যক্তি বা সংস্থার টিআইএন নম্বর থাকবে তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার একটা আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, আয় হোক কিংবা না হোক। এদিকে বাস্থই বিভিন্ন রকম আয় উৎপাদনকারী বা লাভ জনক কার্যক্রম করে যাচ্ছে, যেখান থেকে আয় হচ্ছে বা মুনাফা তৈরি হচ্ছে, যেমন বিল্ড এক্সপো। সেক্ষেত্রে দেশের আইনে কর না দেয়ার একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সরকারের জারিকৃত পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এখন থেকে ব্যক্তি সংস্থা বা অ্যাসোসিয়েশন গুলোকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তাই ইসি বিষয়টি আশু নিস্পত্তি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে।


৩) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান পৃথক হওয়ার কারন?


বাস্থই নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে বা অডিট রিপোর্টে সদস্যদের চাঁদা, ও বিভিন্ন ধরনের দান-অনুদানের সাথে বাস্থই কর্তৃক লাভজনক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুনাফা যেমনি উল্লেখ থাকে তেমনি বিভিন্ন খরচের খাতও উল্লেখ থাকে। বাস্থই একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত এবং এর আয় করমুক্ত। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলেই বাস্থই সরকারি-বেসরকারি অনুদান পেয়ে থাকে।

প্রথমত, বাস্থই যদি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে নিজেকে উল্লেখ করে সেক্ষেত্রে ‘বাস্থই একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান’ ধারনাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

দ্বিতীয়ত, আয়কর আইন অনুসারে লাভজনক কাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুনাফার উপর ২৭.৫% হারে কর প্রদান করতে হয় এবং আয়ের বিপরীতে যে সমস্ত খরচ হয় সে সমস্ত খরচ থেকে ৩% থেকে ১০% উৎসে কর কর্তন না করলে জরিমানা হিসেবে ২৭.৫% হারে কর প্রদান করতে হবে। তা ছাড়াও উক্ত করের উপর অতিরিক্ত কর হিসেবে সুদ জরিমানা তো রয়েছেই। উপরোক্ত নিয়ম না মানার ফলে যে পরিমান কর প্রদান করার বিধান আছে তা লাভজনক কাজে প্রাপ্ত মুনাফার অধিক হওয়ার সম্ভ্যবনা আছে। যদি তাই হয় তাহলে বাস্থইকে চাঁদা, দান-অনুদান থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারে।

এই  প্রেক্ষাপটে,


ক) ২৫ নির্বাহী পরিষদএক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেহেতু বাস্থই একটি অধিবিদ্য সংঘ এবং করদাতা হিসেবে পূর্বেই সরকারি নথিতে চিহ্নিত, তাই বাস্থই রাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী বাস্থই কর প্রদান করবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রেক্ষিতে  বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।


খ)  সরকারি অনুদান, সদস্যদের বাৎসরিক চাঁদা, ব্যক্তিগত অনুদান আয়কর মুক্ত হবার সুযোগ থাকে। বাস্থইয়ের বর্তমান নেতৃতের উদ্যোগের ফলে এবার সরকার প্রদত্ত বাৎসরিক অনুদান ৭৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৯২ লাখে উন্নিত করা হয়, পাশাপাশি ‘বাস্থই অ্যাকাডেমি’ স্থাপনের লক্ষ্যে  সরকার হতে উত্তরায় একটি ১১ কাঠা জমির বরাদ্দের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়। এই সবকিছুই বাস্থই একটি অধিবিদ্য ও অলাভজনক সংঘ হওয়ায় কারনেই সুযোগ সৃষ্টি হয়। করদাতা হিসেবে বাস্থইকে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই লাভজনক কার্যক্রম সমূহকে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।


‘বাস্থই এন্টারপ্রাইজের’ ধারণাটি এই বিষয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ইসিকে মতামত দেন। সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম সমূহ বাস্থই এন্টারপ্রাইজের আওতাধীন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন যে, লাভজনক কর্মকাণ্ডগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় পরিচালনা করা এবং পৃথক ভাবে আয়কর প্রদানের ব্যবস্থা করাই যুক্তিযুক্ত হবে। বিশেষজ্ঞবৃন্দের মধ্যে ছিলেন একজন সুনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট, বিশেষ আমন্ত্রনে যোগদান করেছিলেন কম্পানি আইন বিশেষজ্ঞবৃন্দ, এছাড়াও ছিলেন বাস্থইয়ের কর ও ভ্যাট উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা। 


(গ) বাস্থইের বাণিজ্যিক কর্মকান্ডগুলো ‘বাস্থই এন্টারপ্রাইজের’ আওতায় কোম্পানি আইনে বেধে দেওয়া আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হলে তৈরি হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পাশাপাশি দূর হবে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ।


৪) বাস্থই কি এটা করতে পারে? আইনগত কি কোন বাধা আছে?

বাস্থই এর গঠনতন্ত্রে একাধিক কোম্পানি করার ব্যাপারে যে দিক নির্দেশনা আছে, তা নিম্নরুপ:


“ (৬.৩) আয় ও আয়ের লক্ষ্য, বাস্থই গঠনতন্ত্র, (৬.৩.২)  বাস্তইয়ের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সাধারণ সভার অনুমোদন ক্রমে কোম্পানি অ্যাক্ট (Company Act) এর অধীনে বাস্তইয়ের মালিকানাধীন এক বা একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এ ধরনের কোম্পানি কোম্পানির সমূহের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত পরিচালক ও পরিচালকগণ পালন করবেন।”, 

  

৫) আর কেউ কি এভাবে ভেবেছে?

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে দেশে সেনাকল্যান সংস্থা একাধিক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, ব্যাংক থেকে শুরু করে ট্রান্সপোর্ট সেক্টর পর্যন্ত, যেখানে সেনাকল্যান সংস্থা নিজে একটি সংঘ। এছাড়া, রয়্যাল ইন্সিটিউট অব  ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (RIBA) তাদের বাণিজ্যিক কর্মকান্ড গুলোকে রিবা এন্টারপ্রাইজের আওতায় পরিচালনা করে থাকেন, যেখানে RIBA নিজে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিবন্ধিত। 

 

৬) এই কোম্পানিটি কিভাবে দাঁড় করানো হতে পারে?

ইসি সদস্যবৃন্দ একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করবেন, যারা এ কোম্পানিটি  পরিচালনার দিকনির্দেশনা দিবেন। এখানে উল্লেখ্য, ইসির সদস্য বা প্রতিনিধি এখানে থাকবেন কেবল পদাধিকার (Ex officio) বলে এবং কোন লভ্যাংশও  গ্রহণ করবেন না। ইসি পরিবর্তনের সাথে সাথেই পরিচালকগণ পরিবর্তিত হয়ে যাবেন, যেমনটা হয়ে থাকে সরকারী মালিকানায় কোম্পানিগুলোতে।

 

৭) বাস্থই এটা কিভাবে পরিচালনা করবে?

নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ও পরিচালকগণ ঐ পর্ষদে থাকবেন। শর্ত নথিভুক্ত থাকবে যে তাঁরা কোন লভ্যাংশ পাবেন না। 


বাস্থই এন্টারপ্রাইজের আওতায় এক বা একাধিক প্রজেক্ট বা প্রকল্প পরিচালনা করা যেতে পারে।

প্রতিটি প্রকল্পে থাকবে পৃথক পৃথক বাস্তবায়ন টিম (Project Implementation Committee, PIC), নেতৃত্বে থাকবে নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত সদস্য।


৮) এই কোম্পানির আওতায় কেমন প্রজেক্ট বা প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে?

কোন আবাসন প্রকল্প ( যেমন স্থপতি পল্লী), বুক প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন হাউস, ইভেণ্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, স্টার্টআপ কোম্পানি, বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ইত্যাদি। এই ধরনের কার্যক্রমগুলো পরিচালনায় স্থপতিরা ইতোমধ্যেই তাদের দক্ষতা দেখিয়েছেন, ফলে আগ্রহী সদস্যবৃন্দ এই কোম্পানিগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন, তাতে নতুন নতুন কর্ম ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হবে। 


৯) বাস্থই এই ধারনাটি কিভাবে এটা বাস্তবায়ন করবে?

প্রথম পদক্ষেপ হবে নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একটি খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা। এই খসড়া প্রস্তাবনা নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হলে তা সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভায় অনুমোদিত হলেই কেবল এই কোম্পানি স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।


বর্তমানে ইসি প্রথম ধাপটি নিয়ে কাজ করছে, এই বিষয়ে একাধিক নির্বাহী পরিষদ সভায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা ও বিচার বিশ্লেষণ হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাহী পরিষদ সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরিষদ সভায় উপস্থাপনের কাজটি নির্বাহী পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এখনো নির্বাহী পরিষদ সভায় কোন খসড়া উপস্থাপন বা  চূড়ান্তকরণ হয়নি, ফলে সাধারণ সভায়ও উপস্থাপনের বিষয়টি আপাতত মুলতুবি আছে। বিষয়টি আগামীতে আজেন্ডা ভুক্ত হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া যাবে।    




Comments

Popular posts from this blog

‘ARCHVILLE’ / স্থপতি পল্লী প্রকল্পের ধারণা

ARCHVILLE /  স্থপতি পল্লী ১) প্রেক্ষাপট  একটা প্রশ্ন দিয়েই আলোচনাটার সূত্রপাত করা যাক। আচ্ছা বলুন তো একজন তরুণ স্থপতির কত বছরের কর্মজীবন অতিবাহিত হলে এই নগরীতে একটা এপার্টমেন্ট কিনতে পারবেন?  বা এই দেশের যে কোনো নগরীর কথাই বলা হোক না কেন? পারবেন না তো? কারন, বর্তমান বাজার মুল্যের অবস্থার বিচারে হয়তো এক জীবনে সম্ভব নাও হতে পারে। আর তরুন স্থাপতি বলতে দেশের যুবসমাজকেও বুঝে নিতে পারি। তার হয়তো দরকার ছিল একটা ছোট ছিমছাম অ্যাপার্টমেন্ট, আনুমানিক ৬৫০ স্কয়ার ফিটের আশেপাশে। কিন্তু বাজারে এই মাপের একটা মান সম্মত এপার্টমেন্ট পাওয়াও দুষ্কর, দামের কথা না হয় বাদই দিলাম। দেখা যাক পৃথিবীর অন্যান্য দেশে একজন কর্মজীবী মানুষ কত বছর পেরুলে একটা কনডোমিনিয়াম এপার্টমেন্টের মালিক হতে পারেন (ছবি -১)। ইউরোপে দেখা যাচ্ছে ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যেই সে একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে পারছেন, এদিকে জাপান কিংবা হংকং এর দিকে তাকালে দেখা যায় ১৪ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে! যেখানে একজনের কর্মজীবন হয়ে থাকে ৩০-৩৫ বছর। মানুষ তার মেধা আর চিন্তাশক্তি, সহায়ক নীতিমালা প্রনয়ন করেই দেশটাকে গোছায়, মানববান্ধব পরি...